ব্যাগ থেকে পাসপোর্টটা নেই, বুকটা ধক করে ওঠে। বিদেশ ভ্রমণের ঠিক আগে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু এই মুহূর্তে ঘাবড়ে না গিয়ে সঠিক ধাপগুলো জানা থাকলে সমস্যাটা সামলানো যায়। আরেকটা জরুরি কথা, হারানো পাসপোর্ট অন্য কারো হাতে পড়লে সেটা অপব্যবহার হতে পারে, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া শুধু নতুন পাসপোর্টের জন্যই নয়, নিজের সুরক্ষার জন্যও দরকার।
দেশে বা বিদেশে, দুই পরিস্থিতিতেই কী করতে হবে, ধাপে ধাপে দেখে নিন।
দেশে পাসপোর্ট হারালে: ৩ ধাপ
ধাপ ১: থানায় জিডি করুন
সবচেয়ে আগের কাজ, নিকটস্থ থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন। জিডিতে পাসপোর্ট নম্বর, নাম, কবে-কোথায় হারিয়েছে এসব তথ্য দিন। জিডির দুই কপি করে নিন; থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিল দিয়ে দেবেন। একটি কপি থানায় থাকবে, অন্যটি আপনার কাছে, এই কপিটি রি-ইস্যুতে লাগবে, তাই যত্নে রাখুন।
ধাপ ২: লস্ট সার্কুলার সংগ্রহ করুন
হারানো পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী “লস্ট সার্কুলার” কপি সংগ্রহ করতে হয়, এটি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কীভাবে ও কোথা থেকে করবেন, তা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী জেনে নিন।
ধাপ ৩: অনলাইনে রি-ইস্যুর আবেদন করুন
epassport.gov.bd-এ “Re-Issue” অপশনে আবেদন করুন — নতুন পাসপোর্টের মতোই প্রক্রিয়া, তবে কারণ হিসেবে “Lost/Stolen” নির্বাচন করে জিডির কপি সংযুক্ত করতে হবে। ফি নতুন পাসপোর্টের সমান। এরপর বায়োমেট্রিকের জন্য অফিসে যেতে হবে।
বিদেশে পাসপোর্ট হারালে
- স্থানীয় থানায় রিপোর্ট: যে দেশে আছেন সেখানকার পুলিশ স্টেশনে General Diary/Police Report করুন।
- দূতাবাসে যোগাযোগ: নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশনে পুলিশ রিপোর্টসহ যোগাযোগ করুন।
- ট্রাভেল পাস বা রি-ইস্যু: দ্রুত দেশে ফিরতে হলে দূতাবাস ট্রাভেল পাস দিতে পারে; নয়তো সেখানেই ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যুর আবেদন করা যায় (যেখানে সেবা চালু)।
- কর্মভিসা থাকলে: নিয়োগকর্তাকে দ্রুত জানান — তারা স্থানীয় ইমিগ্রেশনে সহায়তা করতে পারে।
বিদেশে সংগে রাখুন (যদি থাকে): হারানো পাসপোর্টের ফটোকপি, ভিসা/রেসিডেন্স পারমিটের কপি, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি — এগুলো প্রক্রিয়া দ্রুত করে।
রি-ইস্যুতে যা যা লাগে (সংক্ষেপে)
| ডকুমেন্ট | কেন |
|---|---|
| জিডি/পুলিশ রিপোর্টের কপি | পাসপোর্ট হারানোর প্রমাণ (বাধ্যতামূলক) |
| NID | পরিচয় যাচাই |
| হারানো পাসপোর্টের ফটোকপি | থাকলে প্রক্রিয়া সহজ হয় |
| অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি | রি-ইস্যু আবেদনের প্রমাণ |
| ফি পরিশোধের রশিদ | পেমেন্ট প্রমাণ |
আইনি নোট: হারানো পাসপোর্ট-সংক্রান্ত নিয়ম, লস্ট সার্কুলারের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজ অফিস ও পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন এবং সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয়। সঠিক ও সর্বশেষ পদ্ধতির জন্য epassport.gov.bd বা আপনার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। জটিল ক্ষেত্রে অফিসের হেল্পডেস্কের সহায়তা নিন, দালাল নয়।
পাসপোর্ট হারানো ঠেকাতে ৪টি অভ্যাস
- পাসপোর্টের ফটোকপি ও একটি স্ক্যান কপি (ছবি) ফোনে/ইমেইলে রাখুন নম্বরসহ।
- ভ্রমণে পাসপোর্ট আলাদা নিরাপদ পাউচে রাখুন, ব্যাগের বাইরের পকেটে নয়।
- হোটেলে সেফ থাকলে সেখানে রাখুন, সবসময় সঙ্গে না নিয়ে প্রয়োজনে কপি ব্যবহার করুন।
- পাসপোর্ট নম্বর ও তথ্য একটি নিরাপদ জায়গায় নোট করে রাখুন, হারালে জিডি করতে কাজে লাগবে।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে সবার আগে কী করব?
নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন এবং জিডির সিলযুক্ত কপি সংগ্রহ করুন, এটি রি-ইস্যুর জন্য অপরিহার্য।
হারানো পাসপোর্ট কি ফিরে পাওয়া যায়?
কেউ কুড়িয়ে পেয়ে থানায় জমা দিলে ফিরে পাওয়া সম্ভব। নয়তো জিডির কপি দিয়ে রি-ইস্যু করে নতুন পাসপোর্ট নিতে হয়।
রি-ইস্যুতে কি জিডির কপি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ। হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে জিডি/পুলিশ রিপোর্টের কপি আবেদনের সাথে দাখিল করতে হয়।
হারানো পাসপোর্টের নম্বর জানা না থাকলে কী করব?
পুরনো কোনো ফটোকপি, ভিসা স্ট্যাম্প বা ইমেইল থেকে নম্বর খুঁজুন। একেবারে না পেলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের সহায়তা নিন, তারা রেকর্ড থেকে যাচাই করতে পারে।
বিদেশে পাসপোর্ট হারালে দেশে ফিরব কীভাবে?
স্থানীয় পুলিশ রিপোর্ট করে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করুন, তারা ট্রাভেল পাস বা রি-ইস্যুর মাধ্যমে দেশে ফিরতে সহায়তা করবে।
রি-ইস্যুর ছবিও ঘরেই বানান
রি-ইস্যু আবেদনেও লাগবে সঠিক ছবি। থানা-অফিসের দৌড়ঝাঁপের মাঝে স্টুডিও খোঁজার ঝামেলা এড়িয়ে SohozKaj-এর ফ্রি টুল দিয়ে ঘরেই ছবি বানিয়ে নিন। আরও ফ্রি টুল: SohozKaj।








