ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম – অনলাইনে আবেদন করার সম্পূর্ণ গাইড

“পাসপোর্ট করা মানেই ঝক্কি”, এই ধারণাটা এখন অনেকটাই পুরনো। আবেদনের পুরোটাই এখন অনলাইনে হয়, ঘরে বসে ফোন বা কম্পিউটার থেকে। শুধু একটা ধাপে, বায়োমেট্রিক দিতে, পাসপোর্ট অফিসে যেতে হয়, তা-ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে। দালালের হাতে হাজার টাকা তুলে দেওয়ার কোনো দরকার নেই।

নিচে পুরো প্রক্রিয়াটা ধাপে ধাপে সাজিয়ে দিলাম। শুরু করার আগে হাতের কাছে NID আর একটা ইমেইল অ্যাড্রেস রাখুন।

আবেদনের আগে যা প্রস্তুত রাখবেন

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বাধ্যতামূলক। তথ্য NID অনুযায়ী হুবহু দিতে হবে।
  • জন্ম নিবন্ধন: ১৮ বছরের নিচে বা যাদের NID নেই তাদের জন্য।
  • একটি সচল ইমেইল ও মোবাইল নম্বর
  • পেশা প্রমাণের কাগজ (যদি প্রযোজ্য হয়, যেমন স্টুডেন্ট আইডি, চাকরির প্রমাণ)

ধাপে ধাপে ই-পাসপোর্ট আবেদনের নিয়ম

ধাপ ১: ওয়েবসাইটে যান ও অফিস বাছাই করুন

epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে “Apply Online” এ ক্লিক করুন। প্রথমে জিজ্ঞেস করবে আপনি বাংলাদেশে আছেন কি না, তারপর আপনার জেলা ও থানা অনুযায়ী পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করতে বলবে। বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী অফিস বাছুন।

ধাপ ২: অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন

ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন এবং ইমেইলে আসা ভেরিফিকেশন লিংকে ক্লিক করে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করুন।

ধাপ ৩: আবেদন ফরম পূরণ করুন

এবার মূল ফরম। এখানে সবচেয়ে বেশি সাবধানতা দরকার:

  • নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, সব NID অনুযায়ী হুবহু লিখুন। এক অক্ষরের গরমিলেও পরে ঝামেলা হতে পারে।
  • পাসপোর্টের ধরন বাছুন, মেয়াদ (৫/১০ বছর) ও পৃষ্ঠা সংখ্যা (৪৮/৬৪)।
  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে দিন।
  • জরুরি যোগাযোগের (emergency contact) তথ্য দিন।

ধাপ ৪: ডেলিভারির ধরন বেছে ফি পরিশোধ করুন

রেগুলার, এক্সপ্রেস নাকি সুপার এক্সপ্রেস, বেছে নিন। এরপর অনলাইনে (bKash, Nagad, কার্ড ইত্যাদি) অথবা নির্ধারিত ব্যাংকে এ-চালানের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করুন। ফি-র বিস্তারিত ই-পাসপোর্ট ফি কত? পোস্টে আছে।

ধাপ ৫: অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন ও ফরম প্রিন্ট করুন

পেমেন্টের পর বায়োমেট্রিক দেওয়ার জন্য একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন (কিছু অফিসে সরাসরি যাওয়া যায়)। আবেদন সারাংশ (application summary) ও পেমেন্ট স্লিপ প্রিন্ট করে নিন।

ধাপ ৬: পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক দিন

নির্ধারিত দিনে অফিসে গিয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের স্ক্যান দিন। সঙ্গে নিন: প্রিন্ট করা আবেদন কপি, পেমেন্ট স্লিপ, NID/জন্ম নিবন্ধনের মূল ও ফটোকপি। এই ধাপ শেষ হলেই আবেদন সম্পূর্ণ — এরপর শুধু অপেক্ষা।

নোট: সরকারি নিয়ম, কাগজপত্রের তালিকা ও প্রক্রিয়া মাঝেমধ্যে পরিবর্তন হয়। আবেদনের আগে epassport.gov.bd-এ সর্বশেষ নির্দেশনা মিলিয়ে নিন। বিভ্রান্তি এড়াতে দালালের সাহায্য না নিয়ে অফিসের হেল্পডেস্ক বা হেল্পলাইন ব্যবহার করুন।

আবেদনের সময় যে ভুলগুলো এড়াবেন

  • NID-র সাথে তথ্যের গরমিল: নামের বানান, জন্মতারিখ, কোনোটাই আন্দাজে লিখবেন না।
  • ভুল অফিস নির্বাচন: যে এলাকায় থাকেন সেই অনুযায়ী অফিস বাছুন, নইলে বায়োমেট্রিকে সমস্যা হয়।
  • পেমেন্ট স্লিপ হারানো: স্লিপের ছবি তুলে রাখুন, প্রিন্টও রাখুন।
  • তাড়াহুড়ায় সাবমিট: সাবমিটের আগে পুরো ফরম দুবার পড়ুন, সাবমিটের পর সংশোধন ঝামেলার।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

ই-পাসপোর্ট আবেদন কি পুরোপুরি অনলাইনে করা যায়?

আবেদন ফরম পূরণ ও ফি পরিশোধ পুরোটাই অনলাইনে। শুধু বায়োমেট্রিক (ছবি, আঙুলের ছাপ) দেওয়ার জন্য একবার পাসপোর্ট অফিসে যেতে হয়।

আবেদন করতে কী কী কাগজ লাগে?

প্রধানত NID (বা শিশুদের জন্য জন্ম নিবন্ধন), এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পেশা প্রমাণের কাগজ। বায়োমেট্রিকের দিন এসবের মূল কপি সঙ্গে নিতে হয়।

অনলাইনে আবেদন করার পর কতদিনে অফিসে যেতে হয়?

সাধারণত পেমেন্টের কিছুদিনের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী যেতে হয়। নির্দিষ্ট সময় অফিস ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে।

NID-তে নামের বানান ভুল থাকলে কী করব?

আগে NID সংশোধন করিয়ে নেওয়াই ভালো, কারণ পাসপোর্টের তথ্য NID অনুযায়ী হতে হয়। গরমিল থাকলে আবেদন আটকে যেতে পারে।

একজন ব্যক্তি কি একাধিকবার আবেদন করতে পারে?

একই ব্যক্তির একটির বেশি সক্রিয় আবেদন থাকলে জটিলতা তৈরি হয়। ভুল হলে নতুন আবেদন না করে অফিসের সহায়তা নিন।

আবেদনের ছবিটা রেডি আছে তো?

ই-পাসপোর্ট আবেদনে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের সঠিক ছবি লাগে। স্টুডিওতে না গিয়ে SohozKaj-এর ফ্রি টুল দিয়ে ঘরেই বানিয়ে নিন, ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা করে সঠিক সাইজে সেভ, সব ফ্রিতে। ছবির নিয়ম জানতে দেখুন: পাসপোর্টের ছবি কেমন হবে?