পাসপোর্ট করতে হবে শুনলেই আগে মাথায় আসত দালালের কথা, লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়াতে বাড়তি হাজার-দুহাজার টাকা গুনে দেওয়া। অথচ এখন পুরো আবেদনটাই ঘরে বসে নিজের হাতে করা যায়, আর সরকারি ফি ছাড়া বাড়তি এক টাকাও লাগে না। বদলে গেছে অনেক কিছু, এমনকি পুলিশ ভেরিফিকেশনও এখন আর লাগে না।
এই গাইডটা ই-পাসপোর্টের একটা ম্যাপ ধরে নিন কী, কীভাবে, কত টাকা, কতদিন, আর আবেদনের পর কী করতে হয়, সব একনজরে। প্রতিটা ধাপের বিস্তারিত আলাদা পোস্টে আছে, সেগুলোর লিংকও পাবেন যথাস্থানে।
ই-পাসপোর্ট কী?
ই-পাসপোর্ট হলো ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট, সাধারণ পাসপোর্টের মতোই দেখতে, তবে এর ভেতরে থাকে একটা ছোট ইলেকট্রনিক চিপ। এই চিপে আপনার ছবি, আঙুলের ছাপ (fingerprint) আর চোখের আইরিসের মতো বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে বিমানবন্দরে যাচাই দ্রুত হয় আর জাল করা কঠিন।
বাংলাদেশ ২০২০ সাল থেকে ই-পাসপোর্ট চালু করেছে এবং ধাপে ধাপে পুরনো MRP (Machine Readable Passport) থেকে ই-পাসপোর্টে চলে এসেছে। এখন নতুন আবেদন মানেই ই-পাসপোর্ট।
MRP বনাম ই-পাসপোর্ট
| বিষয় | MRP (পুরনো) | ই-পাসপোর্ট (নতুন) |
|---|---|---|
| চিপ | নেই | আছে (বায়োমেট্রিক) |
| বিমানবন্দরে যাচাই | ম্যানুয়াল | ই-গেটে দ্রুত |
| নিরাপত্তা | তুলনায় কম | বেশি |
| আবেদন | বন্ধ | চালু |
ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন কীভাবে?
পুরো আবেদন এখন অনলাইনে — epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে। সংক্ষেপে ধাপগুলো:
- ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের জেলা ও থানা অনুযায়ী পাসপোর্ট অফিস বাছাই করা
- ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা
- অনলাইন ফরম পূরণ (NID অনুযায়ী তথ্য হুবহু মেলাতে হবে)
- অনলাইনে বা ব্যাংকে ফি পরিশোধ
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক (ছবি, আঙুলের ছাপ) দেওয়া
ধাপে ধাপে স্ক্রিনশটসহ পূর্ণ নির্দেশনা পাবেন এই পোস্টে: ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম – অনলাইনে আবেদন করার সম্পূর্ণ গাইড।
ই-পাসপোর্ট ফি কত?
ফি নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর পাসপোর্টের মেয়াদ (৫ বা ১০ বছর), পৃষ্ঠা সংখ্যা (৪৮ বা ৬৪), এবং ডেলিভারির ধরন (রেগুলার, এক্সপ্রেস, সুপার এক্সপ্রেস)। সবচেয়ে প্রচলিত ৫ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের রেগুলার ফি ৪,০২৫ টাকা (ভ্যাটসহ), আর ১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার রেগুলার ফি ৫,৭৫০ টাকা।
মনে রাখবেন: সরকারি ফি সময়ে সময়ে পরিবর্তন হতে পারে। আবেদনের ঠিক আগে epassport.gov.bd-এর অফিসিয়াল ফি চার্ট একবার মিলিয়ে নিন।
সব ক্যাটাগরির বিস্তারিত ফি তালিকা আছে এখানে: ই-পাসপোর্ট ফি কত? নতুন ও রিনিউ পাসপোর্টের সরকারি ফি।
পাসপোর্ট রিনিউ কীভাবে করবেন?
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই (সাধারণত ৬ মাস আগে) রিনিউ করে নেওয়া ভালো। মজার ব্যাপার, রিনিউ মানে আলাদা কোনো প্রক্রিয়া নয়; নতুন পাসপোর্টের মতোই “Re-Issue” অপশনে আবেদন করতে হয়, ফি-ও নতুন পাসপোর্টের সমান। শুধু আবেদনের সময় পুরনো পাসপোর্টের তথ্য দিতে হয় এবং বায়োমেট্রিকের দিন পুরনো পাসপোর্টটি সঙ্গে নিতে হয়।
রিনিউর নিয়ম ও কাগজপত্র নিয়ে বিস্তারিত: পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম – কী কী লাগে, কত টাকা ও কতদিন সময় লাগে।
আবেদনের পর: স্ট্যাটাস ও ডেলিভারি
আবেদন জমা দেওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — “আমার পাসপোর্ট এখন কোথায়?” এটা জানার দুটো ধাপ:
- স্ট্যাটাস চেক: আবেদন কোন পর্যায়ে আছে (প্রসেসিং, প্রিন্ট, রেডি) তা অনলাইনে বা SMS-এ দেখা যায়। ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম দেখুন।
- ডেলিভারি: পাসপোর্ট রেডি হলে কোথা থেকে, কীভাবে সংগ্রহ করবেন — ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি চেক করার নিয়ম ও কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন।
ডেলিভারিতে কতদিন লাগে?
| ডেলিভারির ধরন | আনুমানিক সময় |
|---|---|
| রেগুলার | ১৫–২১ কর্মদিবস |
| এক্সপ্রেস (জরুরি) | ৭–১০ কর্মদিবস |
| সুপার এক্সপ্রেস (অতি জরুরি) | ২ কর্মদিবস |
এটি আনুমানিক সময় বায়োমেট্রিক জমা দেওয়ার পর থেকে গণনা শুরু হয় এবং অফিসভেদে কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
ছবির নিয়ম ও অন্যান্য জরুরি বিষয়
ই-পাসপোর্টের ছবি নিয়ে আলাদা নিয়ম আছে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, নির্দিষ্ট সাইজ, মুখ স্পষ্ট। এসব পাসপোর্টের ছবি কেমন হবে? সাইজ, ব্যাকগ্রাউন্ড ও নিয়ম পোস্টে বিস্তারিত আছে। আর দুর্ভাগ্যক্রমে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করতে হয়, সেটাও জেনে রাখা ভালো: হারানো পাসপোর্ট হলে কী করবেন?
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
ই-পাসপোর্ট করতে কি এখন পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?
সরকার নতুন পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশনের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে, ফলে প্রক্রিয়া আগের চেয়ে দ্রুত হয়েছে। তবে নিয়ম পরিবর্তনশীল, তাই আবেদনের আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বর্তমান নির্দেশনা দেখে নিন।
দালাল ছাড়া নিজে ই-পাসপোর্ট আবেদন করা যায়?
যায়, এবং সেটাই সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। পুরো আবেদন অনলাইনে করা যায়; শুধু বায়োমেট্রিকের জন্য একবার পাসপোর্ট অফিসে যেতে হয়।
৫ বছর নাকি ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট নেব?
ঘন ঘন তথ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলে ১০ বছর মেয়াদিই সুবিধাজনক, বারবার রিনিউর ঝামেলা এড়ানো যায়। তবে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে চেহারা বদলায় বলে ৫ বছরই বেশি বেছে নেওয়া হয়।
ই-পাসপোর্ট আর MRP-র মধ্যে পার্থক্য কী?
ই-পাসপোর্টে বায়োমেট্রিক চিপ থাকে, MRP-তে থাকে না। ই-পাসপোর্ট বেশি নিরাপদ এবং ই-গেটে দ্রুত যাচাই করা যায়।
NID ছাড়া কি ই-পাসপোর্ট করা যায়?
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য NID লাগে এবং তথ্য NID অনুযায়ী হুবহু মেলাতে হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আবেদন করা যায়।
শুরুটা এখান থেকেই
ই-পাসপোর্টের পুরো ছবিটা তো পেলেন এবার যে ধাপে আছেন, সেই পোস্টে ঢুকে বিস্তারিত জেনে নিন। আর আবেদনের জন্য দরকারি ছবি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, সঠিক সাইজ, বানিয়ে নিন SohozKaj-এর ফ্রি ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভার দিয়ে, ঘরে বসেই। আরও ফ্রি টুল: SohozKaj।








