ভিসার আবেদন করতে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ল, পাসপোর্টের মেয়াদ আর মাত্র তিন মাস! বেশিরভাগ দেশ অন্তত ৬ মাস মেয়াদ থাকা পাসপোর্ট চায়, তাই এখন রিনিউ না করলে টিকিট-হোটেল সব ভেস্তে যেতে পারে। চেনা দৃশ্য, তাই না? এজন্যই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেভাগে রিনিউ করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
ভালো খবর হলো, পাসপোর্ট রিনিউ আলাদা কোনো কঠিন প্রক্রিয়া নয়। নতুন পাসপোর্টের মতোই অনলাইনে আবেদন করতে হয়, শুধু কয়েকটা বাড়তি বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। চলুন দেখি।
কখন পাসপোর্ট রিনিউ করবেন?
- মেয়াদ শেষের ৬ মাস আগে: বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে হাতে সময় রেখে করুন।
- পুরনো MRP থাকলে: পুরনো মেশিন রিডেবল পাসপোর্টকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তর করতেও এই একই “রি-ইস্যু” প্রক্রিয়া।
- পাতা শেষ হয়ে গেলে: ঘন ঘন ভ্রমণকারীদের পাসপোর্টের পাতা ফুরিয়ে গেলে রিনিউ দরকার।
- তথ্য পরিবর্তন হলে: নাম, ঠিকানার মতো তথ্য বদলালেও রি-ইস্যু করতে হয় (উপযুক্ত প্রমাণসহ)।
পাসপোর্ট রিনিউ করতে কী কী লাগে?
রিনিউর জন্য সাধারণত যেসব কাগজ লাগে:
- বর্তমান/পুরনো পাসপোর্টের মূল কপি ও ফটোকপি
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- ফি পরিশোধের রশিদ / এ-চালান
- অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি
- পেশা প্রমাণের কাগজ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
- তথ্য সংশোধন করলে তার সপক্ষে প্রমাণপত্র
- সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে NOC/GO (যদি থাকে)
কাগজপত্রের বিস্তারিত ও ক্যাটাগরিভিত্তিক তালিকা পাবেন: পাসপোর্ট রিনিউ করতে কী কী লাগে? প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা।
পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম (ধাপে ধাপে)
ধাপ ১: রি-ইস্যু অপশনে আবেদন
epassport.gov.bd-এ গিয়ে নতুন আবেদনের মতোই শুরু করুন, তবে আবেদনের ধরনে “Re-Issue” বাছুন এবং পুরনো পাসপোর্টের তথ্য দিন।
ধাপ ২: তথ্য যাচাই ও ফি পরিশোধ
পুরনো পাসপোর্ট অনুযায়ী তথ্য মিলিয়ে নিন, ডেলিভারির ধরন বেছে ফি পরিশোধ করুন।
ধাপ ৩: বায়োমেট্রিক ও পুরনো পাসপোর্ট জমা
অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন অফিসে যান। পুরনো পাসপোর্টটি অবশ্যই সঙ্গে নেবেন, রিনিউর ক্ষেত্রে এটা বাধ্যতামূলক। নতুন করে বায়োমেট্রিক দিতে হবে।
পাসপোর্ট রিনিউ করতে কত টাকা লাগে?
রিনিউর ফি নতুন পাসপোর্টের সমানই, মেয়াদ, পৃষ্ঠা ও ডেলিভারির ধরনের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, ৫ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার রেগুলার রিনিউ ৪,০২৫ টাকা এবং ৫ বছর মেয়াদি ৬৪ পৃষ্ঠার রেগুলার রিনিউ ৬,৩২৫ টাকা।
| পাসপোর্টের ধরন | রেগুলার | এক্সপ্রেস | সুপার এক্সপ্রেস |
|---|---|---|---|
| ৫ বছর / ৪৮ পৃষ্ঠা | ৪,০২৫৳ | ৬,৩২৫৳ | ৮,৬২৫৳ |
| ১০ বছর / ৪৮ পৃষ্ঠা | ৫,৭৫০৳ | ৮,০৫০৳ | ১০,৩৫০৳ |
সতর্কতা: ফি ও নিয়ম পরিবর্তনশীল, উপরের অঙ্ক আনুমানিক ও সাধারণ ক্যাটাগরির। আবেদনের আগে epassport.gov.bd-এর সর্বশেষ ফি চার্ট মিলিয়ে নিন। সম্পূর্ণ তালিকা: ই-পাসপোর্ট ফি কত?
রিনিউ হতে কতদিন লাগে?
| ডেলিভারি | আনুমানিক সময় |
|---|---|
| রেগুলার | ১৫–২১ কর্মদিবস |
| এক্সপ্রেস | ৭–১০ কর্মদিবস |
| সুপার এক্সপ্রেস | ২ কর্মদিবস |
বায়োমেট্রিক জমার পর থেকে সময় গণনা শুরু হয়। ভ্রমণের তারিখ নির্ধারিত থাকলে হাতে বাড়তি সময় রেখে আবেদন করুন।
রিনিউর সময় সাধারণ ভুল
- পুরনো পাসপোর্ট সঙ্গে না নেওয়া: এটি ছাড়া রিনিউ প্রক্রিয়া আটকে যায়।
- নতুন করে তথ্য বদলে দেওয়া: কারণ ছাড়া তথ্য পরিবর্তন করলে প্রমাণ চাওয়া হয়, সময় লাগে।
- মেয়াদ একদম শেষ মুহূর্তে রিনিউ করা: ভ্রমণের আগে তাড়াহুড়ায় সুপার এক্সপ্রেসে বাড়তি খরচ।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
পাসপোর্ট রিনিউ আর নতুন পাসপোর্টের আবেদন কি আলাদা?
প্রক্রিয়া প্রায় একই, অনলাইনে “Re-Issue” অপশনে আবেদন করতে হয়। মূল পার্থক্য হলো রিনিউতে পুরনো পাসপোর্টের তথ্য ও মূল কপি লাগে।
MRP পাসপোর্ট কি ই-পাসপোর্টে রিনিউ করা যায়?
যায়। পুরনো MRP-কে ই-পাসপোর্টে রূপান্তর করতে একই রি-ইস্যু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি পুরনো পাসপোর্ট জমা দিতে হয়?
বায়োমেট্রিকের দিন পুরনো পাসপোর্ট সঙ্গে নিতে হয় এবং সাধারণত নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় পুরনোটি জমা/বাতিল করা হয়।
মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া পাসপোর্টও কি রিনিউ করা যায়?
যায়। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও রি-ইস্যু আবেদন করে নতুন পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
রিনিউতে কি আবার বায়োমেট্রিক দিতে হয়?
হ্যাঁ, রি-ইস্যুর ক্ষেত্রেও ছবি ও আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক নতুন করে দিতে হয়।
রিনিউর ছবিও ঘরেই বানান
রিনিউ আবেদনেও লাগবে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি। SohozKaj-এর ফ্রি ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভার দিয়ে পুরনো ছবিরই ব্যাকগ্রাউন্ড বদলে সঠিক সাইজে সেভ করে নিন, স্টুডিওর খরচ বাঁচবে। আরও ফ্রি টুল SohozKaj-এ।








